উত্তর :ঐতিহাসিকগণ ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে মধ্যযুগ রূপে চিহ্নিত করেছেন। মােটামুটিভাবে সমগ্র বিশ্বেই মধ্যযুগের ক্ষেত্রে একই রকমের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
প্রথমত, মধ্যযুগে দাস ব্যবস্থার অবলুপ্তি হয়। রােমান ও জার্মানদের মিশ্রণে উভয় জাতির মধ্যেই সমন্বয়বাদী পরিবর্তন ঘটতে থাকে। জার্মানরা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে নতুন সমাজ গড়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ত, মধ্যযুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সামন্ততন্ত্র। এই নতুন আর্থিক ব্যবস্থায় চাষি ও তার পরিবার জমিদারের এলাকায় স্বাধীনভাবে বসবাস করত ও উৎপাদিত ফসলের ভাগ ভােগ করত।
তৃতীয়ত, মধ্যযুগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন চালু হয়। রােমান অভিজাতদের সরিয়ে জার্মান যােদ্ধারা এক-একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। রােমানদের মতাে জার্মানদেরও রাজপদ বংশানুক্রমিক হয়ে ওঠে।
চতুর্থত, খ্রিস্টান মঠ ও গির্জাগুলি শিক্ষা-সংস্কৃতির ধারক ও বাহকে পরিণত হয়। ইউরােপে
শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও চার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।
পঞ্চমত, মধ্যযুগে সমাজে পুরােহিত ও অভিজাত ভূস্বামীদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নৈতিক অবনতি ঘটে।
ষষ্ঠত, দ্বাদশ শতক থেকে গির্জার প্রভাব ক্রমশ কমতে থাকায় মানুষের মন থেকে অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর হয়ে যায়। ইউরােপে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটলে আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত রচিত হয়।
Tags
History
