টীকা লেখো : লক্ষ্মণসেন

উত্তর: লক্ষ্মণসেন পিতা বল্লালসেনের মৃত্যুর পর ৬০ বছর বয়সে ১১৭৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে বসেন। তাঁর সম্পর্কে জানা যায় তাঁর সভাকবি উমাপতি ধর ও শরণের রচনা, মিনহাজ-ই সিরাজ রচিত 'তবকাত-ই নাসিরি’ গ্রন্থ এবং বিভিন্ন তাম্রলিপি থেকে। 
[1] রাজ্যজয় : লক্ষ্মণসেন ছিলেন একজন সুনিপুণ যোদ্ধা। সমগ্র বাংলাদেশে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল। তিনি গহড়বালরাজ জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন। তিনি এলাহাবাদ, কাশী ও পুরীতে বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করেন। 
[2] রাজধানী : লক্ষ্মণসেনের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর।
[3] উপাধি : তিনি সমগ্র বাংলা জয় করে ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি নেন। এ ছাড়া তাঁর উপাধি ছিল ‘অরিরাজ-মর্দন-শঙ্কর’, ‘পরম বৈষুব’ প্রভৃতি। 
[4] গুণাবলি : লক্ষ্মণসেন ছিলেন বিদ্যোৎসাহী ও সাহিত্যানুরাগী রাজা। তাঁর রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন বাংলার শ্রেষ্ঠ বৈষুব কবি জয়দেব, ‘পবনদূত’ প্রণেতা ধোয়ী, শাস্ত্রজ্ঞ হলায়ুধ প্রমুখ। তিনি নিজেও একজন কবি ছিলেন। তিনি পিতার অসমাপ্ত ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থের রচনা সম্পূর্ণ করেন।
[5] পতন : লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে ১২০৪-০৫ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি নদিয়া আক্রমণ করেন। লক্ষ্মণসেন এই আক্রমণ প্রতিহত করার সুযোগ না পেয়ে পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান এবং তুর্কিবাহিনী বাংলা জয় করে। তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি ও দানশীলতার জন্য এক মুসলমান কবি তাঁকে বাগদাদের খলিফার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال