উত্তর: গৌড়রাজ শশাঙ্কের মৃত্যুর (৬৩৭ খ্রি.) পর প্রায় একশো বছর ধরে বাংলায় যে অরাজকতা চলেছিল, তাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ : বড়ো মাছ যেমন ছোটো মাছকে গিলে খায়, বাংলায় সেরকম সবল মানুষ দুর্বলের উপর অত্যাচার করত। মাছের জগতের মতো বাংলার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে একে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
মাৎস্যন্যায় সৃষ্টির কারণ :
বাংলায় মাৎস্যন্যায় সৃষ্টির কারণ হল—
[1] প্রথমত, শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় কোনো শক্তিশালী রাজার আবির্ভাব হয়নি।
[2] দ্বিতীয়ত, বাংলা তখন কয়েকটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল; যথা— @ কাজঙ্গল, ® কর্ণসুবর্ণ, ® পুণ্ড্রবর্ধন, তাম্রলিপ্ত, 5 সমতট প্রভৃতি। ফলে অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও বৈদেশিক আক্রমণ প্রতিহত করার মতো কোনো কেন্দ্রীয় শক্তি ছিল না।
◆ রাজনৈতিক অবস্থা :
[1] বিশৃঙ্খলা : বাংলায় দুর্বল মানুষের উপর সবলের অত্যাচার ও হত্যা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল
[2] বৈদেশিক আক্রমণ : হর্ষবর্ধন, কামরূপরাজ ভাস্করবর্মা, নাগ সম্প্রদায়ের রাজা জয়নাগ, কাশ্মীরের মুক্তাপিড় ললিতাদিত্যের আক্রমণ ও লুণ্ঠনে বাংলা ছারখার হয়ে গিয়েছিল। ফলে বাংলার জনগণের দুঃখদুর্দশার অন্ত ছিল না। মাৎস্যন্যায়ের অবসান : প্রায় একশো বছর ধরে এই অরাজকতা চলার পর বাংলার নেতৃবৃন্দ (প্রকৃতিপুঞ্জ) সম্মিলিতভাবে গোপাল নামে
জনৈক সামন্তরাজাকে বাংলার রাজা মনোনীত করে (৭৫০ খ্রি.)। ফলে বাংলায় মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে।
Tags
History
