বঙ্গ আমার জননী আমার প্রশ্ন উত্তর | দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

 ১.১ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তর: দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা দুটি কাব্যগ্রন্থ – আৰ্যগাথা (১ম ভাগ) এবং মন্ত্র ৷

১.২ কবি দ্বিজেন্দ্রলালের কবিতার মূল সুর কী ছিল?

উত্তর: কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কবিতার মূল সুর ছিল দেশপ্রেম।

উত্তর: মলিন (বিশেষণ) — মালিনতা (বিশেষ্য)। 

মধুর (বিশেষণ) — মধুরতা (বিশেষ্য)। 

আসন (বিশেষ্য) — আসীন (বিশেষণ)। 

দৈন্য (বিশেষ্য) — দীন (বিশেষণ)। 

প্রণত (বিশেষণ) — প্রণাম (বিশেষ্য)।

উত্তর: উপনিবেশ = উপ + নিবেশ। 

অশোক = অ + শোক। 

আলোক = আ + লোক। 

প্রণত = প্র + ণত। 

৪.১ কেন গো মা তোর মলিন বেশ?

৪.২ অশোক যাঁহার কীর্তি ছাইল গান্ধার হতে জলধি শেষ।

৪.৩ একদা যাহার বিজয় সেনানী হেলায় লঙ্কা করিল জয়।

৪.৪ ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমণি।

৪.৫ নবীন গরিমা ভাবিতে আবার ললাটে তোর।

উত্তর:

উদ্দেশ্যবিধেয়
৪.১ মাকেন গো তোর মলিন বেশ?
৪.২ অশোকযাঁহার কীর্তি ছাইল গান্ধার হতে জলধি শেষ।
৪.৩ যাহারএকদা বিজয় সেনানী হেলায় লঙ্কা করিল জয়।
৪.৪ রঘুমণিন্যায়ের বিধান দিল।
৪.৫ ললাটে তোরনবীন গরিমা ভাতিবে আবার।

উত্তর: 

৫.১ আমি + সম্বন্ধপদ + বহুবচন = আমাদের।

৫.২ আমি কর্তৃকারক + বহুবচন = আমরা।

৫.৩ তুহ + সম্বন্ধপদ + একবচন = তোর।

৫.৪ যিনি + সম্বন্ধপদ + একবচন = যাদের।

উত্তর: 

গৌরব — কীর্তি। 

সুর — তান। 

মুক্তি — মোক্ষ। 

নতুন — নবীন। 

জলধি — অর্ণব।

উত্তর: বুদ্ধ — ভগবান তথাগত নামে তিনি পরিচিত ছিলেন। গৌতম নামে কপিলাবস্তু নগরীর রাজকুমাররূপে জন্মেও মানুষের মুক্তির জন্য চিন্তা করতেন। মানুষের মুক্তির উপায় খুঁজতে তিনি তপস্যা করেন ও বুদ্ধ নামে পরিচিত হন। তাঁর প্রচারিত ধর্মমত বৌদ্ধধর্ম নামে পরিচিত।

রঘুমণি — শ্রী চৈতন্যের সময় নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ন্যায়শাস্ত্রে সুপন্ডিত এক মানুষ। সমস্ত নবদ্বীপ তথা বাংলায় তাঁর ন্যায়শাস্ত্রের পান্ডিত্যের কথা অবিদিত ছিলো না।

নিমাই — তিনি শ্রী চৈতন্য নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সুপন্ডিত। তিনি শ্রীকৃষ্ণের নামগান করতেন। ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এই নিমাই শ্রীচৈতন্য। তাঁর প্রচারিত ধর্মমত বৈষ্ণব ধর্ম নামে পরিচিতি লাভ করে। 

চন্ডীদাস — কবি চণ্ডীদাস পদাবলী সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক তাঁর পদগুলি আজও সকলকে মুগ্ধ করে।

৮.১ কবি দেশকে কী কী নামে সম্বোধন করেছেন ?

উত্তর: কবি দেশকে নানা নামে সম্বোধন করেছেন। যেমন – মা, বঙ্গ, জননী, সাধনা, দেবী, ধাত্রী, স্বর্গ নামে সম্বোধন করেছেন।

৮.১ ‘কেন গো মা তোর মলিন বেশ’—মা’ বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন ? তাকে ‘মা’ বলা হয়েছে কেন ? 

উত্তর: “মা” বলতে কবি বঙ্গজননীকে বুঝেছেন। তাকে ‘মা’ বলেছেন কারণ কবির মতে বঙ্গজননী হলেন মায়ের মতো। মা যেমন সন্তান ধারণ করেন, পালন পোষণ করেন, তেমনি বঙ্গজননী আমাদের ধারণ করেছেন পালন পোষণ করেছেন।

৮.৩ ‘মা’-এর বেশ মলিন ও বেশ রুক্ষ কেন?

উত্তর: ‘মা’-এর বেশ মলিন ও রুক্ষ। কেননা বিদেশি শাসনে মায়ের আসনের গরিমা ধূলিসাৎ হয়েছে। তাঁর আগের গৌরব অস্তমিত। তাঁর সেই বসনভূষণ নেই। তাঁর জীর্ণ বসন, দৈন্য বেশ। মায়ের আসনে আজ আর সেই গৌরবের গরিমা নেই। তাঁর চেহারায় না আছে ঔজ্জ্বল্য, না আছে পোশাকের পরিচ্ছন্নতা। তিনি যেন এক ধনী গৃহিণী থেকে দুঃখিনী ভিখারিনীতে পরিণত হয়েছেন।

৮.৪ অশোক কোথায় কোথায় তাঁর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন?

উত্তর: অশোক মগধের রাজা ছিলেন। সেখান থেকে কলিঙ্গ জয় করেন। তারপর তিনি রাজ্যজয় ছেড়ে ধর্মজয়ে মনোনিবেশ করেন। তিনি সুদুর সিংহলে বৌদ্ধধর্মপ্রচার করতে তাঁর পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রাকে পাঠান। সুদুর গান্ধার থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত এমনকি ভারতের বাইরেও অশোক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। 

৮.৫ ‘অর্ধ-জগৎ ভক্তি-প্রণত চরণে যাঁর’—’অর্ধ-জগৎ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? কার চরণে তা প্রণত হয়েছে?

উত্তর: ‘অর্ধ-জগৎ’ বলতে কবি ‘অর্ধেক পৃথিবী’ বুঝিয়েছেন। গৌতম বুদ্ধ সারা ভারতব্যাপী যে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার করেন তা ক্রমে ভারতের সীমা অতিক্রম করে পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সম্রাট অশোক পৃথিবীর নানাদেশে প্রতিনিধি পাঠান। ফলে পৃথিবীর বহু দেশেই বৌদ্ধধর্ম প্রভাব বিস্তার করে । 

ভগবান বুদ্ধের চরণে প্রণত হবার কথা বলা হয়েছে।

৮.৬ ‘যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য’ প্রতাপাদিত্য কে ছিলেন? তিনি কাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন?

উত্তর: প্রতাপাদিত্য ছিলেন বঙ্গদেশের একজন রাজা।

তিনি বঙ্গদেশ আক্রমণকারী তুর্কীদের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।

৮.৭ ‘ধন্য আমরা’——আমরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? আমরা কখন নিজেদের ধন্য বলে মনে করতে পারি?

উত্তর: ‘আমরা’ বলতে এখানে বাঙালি যারা বঙ্গদেশে বসবাস করে তাদের কথা বলা হয়েছে। যখন আমরা বঙ্গজননীর দুঃখ ঘোচাতে পারব, তাঁকে বিদেশি শাসনশৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে পারব, তাঁকে পুনগৌরবে

প্রতিষ্ঠা করতে পারব তখন নিজেদের ধন্য বলে মনে করতে পারব।

৮.৮ নবীন গরিমা কীভাবে ললাটে ফুটে উঠবে?

উত্তর: বঙ্গজননীর বিদেশি পরাধীনতার শৃঙ্খলামোচন যেদিন করতে পারব, সেদিন বঙ্গজননীর দৈন্য কেটে যাবে। তাঁর দীনতা, তাঁর কষ্ট দূর হবে। তাঁর গৌরব প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি পুনরায় স্ব-গৌরবে স্ব-মহিমায় মহিমান্বিত হবেন। কষ্টের কালিমা, লজ্জার কালিমা ঘুচে যাবে। তার বদলে নবীন গরিমা বঙ্গমাতার কপালে ফুটে উঠবে।

৮.৯ আমরা কীভাবে বঙ্গজননীর দুঃখ, দৈন্য, লজ্জা দূর করতে পারি ?

উত্তর: আমরা বঙ্গজননীর গৌরব প্রতিষ্ঠা করতে পারি যদি বিদেশি শাসন শৃঙ্খল মোচন করে বঙ্গজননীকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিই। অতীত গৌরবের মহিমায় তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। যদি তাঁর সকল দৈন্য ঘুচিয়ে তাঁর লজ্জা মুছিয়ে নতুনভাবে দেশের গৌরব প্রতিষ্ঠা করতে পারা যায় তবেই বঙ্গজননীর দুঃখ, দৈন্য দূর হবে। তিনি স্বমহিমায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করবেন। এরজন্য দরকার দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান। দেশের মানুষের উদ্যোগ। তাঁরাই পারেন দেশজননীর লজ্জা দূর করে তাঁকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে। তাই দেশমাতৃকার শৃঙ্খল মোচনের জন্য প্রত্যেক মানুষেরই উদ্যোগী হওয়া উচিত।

৯.১ “যদিও মা তোর দিব্য আলোকে ঘিরে আছে আজ আঁধার ঘোর’—কবির কেন মনে হয়েছে যে বঙ্গ জননীকে আঁধার ঘিরে আছে?

উত্তর: কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রধানত দেশপ্রেমমূলক কবিতার জন্য বিখ্যাত। বঙ্গজননীর দুঃখদুর্দশা দেখে কবির হৃদয় আকুল হয়েছে। তিনি বঙ্গজননীর প্রতি অত্যন্ত কাতর হয়েছেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে বঙ্গজননী আজ শৃঙ্খলিত তাঁকে আজ আঁধার ঘিরে রয়েছে। তাঁর দিব্য আলোক আজ আঁধারময়, গৌরব অস্তমিত। তাঁর দুর্দশার কোনো সীমা নেই। তাঁর হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। তাঁর দুর্দশায় কবির হৃদয়ে গভীর খেদ সৃষ্টি হয়েছে। তাই কবির মনে হয়েছে বঙ্গজননীকে আঁধার ঘিরে রয়েছে।

৯.২ এই বঙ্গদেশ তোমার কাছে কেন প্রিয় সে সম্পর্কে জানিয়ে তোমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।

উত্তর: প্রিয় সুজাতা, অনেক দিন তোর কোনো চিঠি পাই নি। ভেবেছিলাম তোর চিঠি পাওয়ার পর চিঠি লিখব কিন্তু তার আগেই লিখলাম। আজকে আমার চিঠির বিষয়- বঙ্গভূমি আমার কাছে কেন প্রিয়। আমরা জানি মানুষ যে পরিবেশে জন্মায়, বড়ো হয়, বাস করে সেটা তার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। আমরা এই বাংলায় জন্মেছি, বড়ো হয়েছি। এখানকার আলো-বাতাস, গাছপালা, পশুপাখি, মানুষজন সবই আমাদের প্রিয়। এই বাংলাকে নানাজনে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতিতে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। দেশের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি ও পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্য অনেক বঙ্গ সন্তান প্রাণ দিয়েছেন। সেজন্য আমরা গর্বিত। এখানকার ঋতু বৈচিত্র্য মানুষের জীবনের উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। কবি গেয়েছেন, ‘আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতেই মরি।’ এটা শুধু কবির নয় আমাদের সবারই মনের কথা। এটাই দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বদেশপ্রেম। তোরও নিশ্চয়ই একই মত। চিঠিতে জানাস। উত্তরের আশায় রইলাম। ভালোবাসা নিস।

ইতি—

তোর বন্ধু ঝুমুর

৯.৩ চিন, জাপান, তিব্বতে বাঙালি সত্যি কি কোনোদিন উপনিবেশ তৈরি করেছিল? শিক্ষক/শিক্ষিকার কাছ থেকে এ বিষয়ে জেনে নিয়ে লেখো।

উত্তর: তিব্বতে বাঙালী পর্যটক অতীশ দীপঙ্কর গিয়েছিলেন। সেখানে বহুবছর ছিলেন। বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন। সেখানে তাঁর পান্ডিত্যের জন্য সমাদৃত হন। চিন থেকে ভারতে এসেছিলেন ভূ-পর্যটক হিউয়েন সাঙ। তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেন। তাঁর পান্ডিত্যে রাজা হর্ষবর্ধন মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি একটা ভ্রমণকাহিনীও লেখেন। তবে চিন, জাপান বা তিব্বতে ভারত কোনো দিন উপনিবেশ স্থাপন করেনি।

৯.৪ পরাধীন ভারতের মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এই কবিতায় দেশের প্রতি যে ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়েছে তা তোমার নিজের ভাষায় বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা ‘বঙ্গ আমার! জননী আমার!’ কবিতাটি দেশপ্রেমমূলক কবিতা। তাঁর কবিতায় কবির দেশজননীর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা দেশভক্তি প্রকাশ পেয়েছে। কবি যেন তাঁর মায়ের দুঃখ দেখে দুঃখিত হয়েছেন। তিনি যেন তাঁর মাকে অগৌরবের আসনে আজ দেখতে পাচ্ছেন। কবি দেশের জন্য যে ভাবিত চিন্তিত তা তাঁর লেখার মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠছে। তিনি নিজেকে যেন দেশজননীর অভাগা পুত্রদের মতো জ্ঞান করছেন। তিনি দেশজননীর কষ্ট লাঘব করতে চান কিন্তু কোন্ উপায়ে তা সম্ভব তা জানেন না। তবুও তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, দেশমাতৃকার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাভক্তি বিশ্বাস এতটুকু টলাতে দেবেন না। তিনি যেভাবেই হোক বঙ্গজননীকে তাঁর প্রাপ্য গৌরবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال