শহীদ যতীন্দ্রনাথ দাস প্রশ্ন উত্তর | আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়

 ১.১ আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় কোন খেলার ধারাভাষ্যকার ছিলেন ? 

উত্তর : আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় ফুটবল খেলার ধারাভাষ্যকার ছিলেন।

১.২ তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তর : তাঁর লেখা একটি বই হল— স্বাধীনতার রূপকার নেতাজি সুভাষ ।

২.১ যতীন দাশ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন ?

উত্তর : যতীন দাশের জন্ম কোলকাতার শিকদারবাগান অঞ্চলে, মামার বাড়িতে।

২.২ যতীন দাশের পিতার নাম কী ছিল?

উত্তর : যতীন দাশের পিতা ছিলেন বঙ্কিমবিহারী দাশ।

২.৩ যতীন দাশের পিতা কোথায় চাকরি করতেন?

উত্তর : যতীন দাশের পিতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে চাকরি করতেন।

২.৪ যতীন দাশের ছদ্মনাম কী ছিল ?

উত্তর : যতীন দাশের ছদ্মনাম প্রথমে ছিল রবিন, পরে কালীবাবু।

২.৫ হিন্দ নওজওয়ান সভা কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর : ভগৎ সিং পাঞ্জাবে হিন্দ নওজওয়ান সভা প্রতিষ্ঠা করেন।

২.৬ মি. প্যাট্রি কে ছিলেন ?

উত্তর : মি. প্যাট্রি ইংরেজ গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন।

২.৭ লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের কোন জেলে বদলি করা হয় ?

উত্তর : লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের লাহোর সেন্ট্রাল জেলে বদলি করা হয়।

২.৮ কারা যতীনের জামিনের প্রস্তাব ঘৃণাভরে অগ্রাহ্য করেন?

উত্তর : যতীন দাশের পিতা বঙ্কিমবিহারী দাশ ও ছোটোভাই কিরণচন্দ্র জামিনের প্রস্তাব ঘৃণাভরে অগ্রাহ্য করেন।

উত্তর : নিজে করো 

উত্তর : পর্যন্ত = পরি + অন্ত। কিন্তু = কিম্ + তু। প্রত্যক্ষ = প্রতি + অক্ষ। সিদ্ধান্ত = সিদ্ধ + অন্ত। যতীন্দ্র = যতি + ইন্দ্ৰ । ব্যগ্র = বি + অগ্র।

উত্তর : 

আ + জীবন = আজীবন। অ + শেষ = অশেষ।

আ + বেশ = আবেশ। বি + পথ = বিপথ।

বে + ঠিক = বেঠিক। নি + দারুণ = নিদারুণ।

নির + উপায় = নিরুপায়। অ + জ্ঞান = অজ্ঞান। অনু + করণীয় = অনুকরণীয়।

 ২৭ অক্টোবর, ১৯০৪; ৮ এপ্রিল ১৯২৯; ২৫ জুন ১৯২৯; ১১ অগস্ট ১৯২৯; ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯।

উত্তর : ২৭ অক্টোবর, ১৯০৪ – যতীন দাশের জন্ম।

৮ এপ্রিল, ১৯২৯–কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভায় ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বরের বোমাবর্ষণ।

২৫ জুন, ১৯২৯—যতীনদাশ সহ ১৫ জন বন্দীকে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আসামিরূপে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে বদলি ।

১১ অগস্ট, ১৯২৯—লর্ড আরউইন কর্তৃক অনশনকারীদের দাবি দাওয়া মেনে নেওয়া ।

১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯২৯—যতীন দাশের মৃত্যু।

৭.১ তাঁরা সব মিলিয়ে দশ ভাইবোন ছিলেন।

৭.২ যতীন ভবানীপুরের মিত্র ইন্সটিউশন থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

৭.৩ বিচারে তাঁর ছয় মাসের জেল হয়।

৭.৪ তাঁর দ্বিতীয় ছদ্মনাম হল ‘কালী বাবু’। 

উত্তর : নিজে করো 

৮.১ কিশোর বিপ্লবী হিসেবেই যতীন্দ্রনাথ দাশের নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। 

৮.২ ছেলেবেলা থেকেই তিনি একটি স্বপ্ন লালন করে আসছেন মনে মনে। 

৮.৩ শুরু হয় অগ্নিযুগের এক অবিস্মরণীয় রক্তে রাঙা অধ্যায়।

৮.৪ শেষ পর্যন্ত এল শেষের সেই ভয়ংকর দিনটা।

উত্তর : নিজে করো 

৯.১ জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জন্য ভগৎ সিং, ভগবতীচরণ শুক্লা এবং আরও কয়েকজন কংগ্রেসের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করেন।

৯.২ ছেলেবেলা থেকে তিনি একটি স্বপ্ন লালন করে আসছেন মনে মনে।

৯.৩ সাতটি দিন নিরুপদ্রবে কেটে গেল।

৯.৪ শরীর সর্বদিক থেকেই ভেঙে পড়ছে।

উত্তর : ৯.১ কংগ্রেসের (এর বিভক্তি), মতপার্থক্যের (এর বিভক্তি), জন্য- অনুসর্গ।

৯.২ করে (এ বিভক্তি), মনে (এ বিভক্তি), থেকে- অনুসর্গ।

৯.৩ নিরুপদ্রবে (এ বিভক্তি)।

৯.৪ থেকে- অনুসর্গ।

১০.১ যতীন দাশের পিতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্থায়ী চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছিলেন কেন? এর ফল কী হয়েছিল ?

উত্তর : যতীন দাশের পিতা বঙ্কিমবিহারী ইংরেজদের গোলামি করবেন না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, তাই তিনি সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দেন ।

তিনি ছোটো একটা স্টেশনারি দোকান চালিয়ে সংসার অতিবাহিত করেন এবং আজীবন দুঃখের সঙ্গে লড়াই করেন।

১০.২ “… তোমার মতো মহান বিপ্লবীর জন্য ও একটা কাজ আমার অবশ্যই করতে হবে’—কে কাকে একথা বলেছিলেন ?

উত্তর : আলোচ্য উক্তিটি যতীন দাশের। বিপ্লবী ভগৎ সিংকে তিনি একথা বলেছিলেন। ভগৎ সিং মি. স্যাণ্ডার্সকে হত্যা করে কলকাতায় পালিয়ে এসে যতীন দাশের সঙ্গে দেখা করে যতীন দাশকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন ভগৎ সিং-এর নওজোয়ান সভার জন্য কিছু করেন। এর উত্তরে যতীন দাশ একথা বলেছিলেন।

১০.৩ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে কী ঘটেছিল ?

উত্তর : বিপ্লবী ভগৎ সিং ও তাঁর সহযোগী বটুকেশ্বর দত্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে সভ্যদের আসনের পাশেই বোমা ফেলেন। এর ফলে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। বিচারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

১০.৪ ১৪ জুন ১৯২৯ যতীন দাশকে কেন গ্রেপ্তার করা হয় ?

উত্তরঃ ব্রিটিশ গোয়েন্দা মি. প্যাট্রিক ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে বোমা নিক্ষেপের তদন্ত করতে গিয়ে ত্রিশটি নামের

তালিকা প্রকাশ করেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন যতীন দাশ। তাঁকে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। 

১০.৫ ১৯২৯ সালের ১৩ জুলাই অনশন শুরু হয় কেন?

উত্তর : লাহোর সেন্ট্রাল জেলে অমানুষিক পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে যতীন দাশ সহ আরো ১৬ জন সমবেত

অনশনের সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত সহ যতীন দাশ এবং আরো কয়েকজন বিপ্লবী সমবেত অনশন শুরু করেন ১৩ জুলাই, ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে।

১০.৬ অনশন করার আগে যতীন তাঁর সহযোদ্ধাদের কী অঙ্গীকার করান? তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন না কেন ? 

উত্তর : অনশন শুরু করার আগে যতীন তাঁর সহযোদ্ধাদের অঙ্গীকার করিয়ে নেন যে তাঁদের দাবি দাওয়াগুলোর যথাযথ মীমাংসা হয়ে গেলে তাঁরা অনশন ভঙ্গ করবেন। যতীন দাশ অনশন ভঙ্গ করবেন না কেননা মাতৃভূমির শৃঙ্খলা মোচনের এই সুযোগ তিনি হারাতে রাজী নন।

১০.৭ জেলে অনশনের সময় যতীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কেন?

উত্তর : যতীন দাশ জেলে অনশনের সময় ইংরেজ সরকার তাঁকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এরজন্য তারা

আটজন হৃষ্টপুষ্ট পাঠানকে পাঠায়। তারা যতীন দাশের ওপর বলপ্রয়োগ করে তাঁর নাকের মধ্যে নল ঢুকিয়ে জোর করে দুধ ঢালতে থাকে কিন্তু যতীন দাশ ইচ্ছাকৃতভাবে কাশতে থাকেন। ফলে নলটির মুখ খাদ্যনালীর থেকে সরে গিয়ে শ্বাসনালীর মধ্যে ঢুকে যায় এবং কিছুটা দুধ যতীন দাশের ফুসফুসে ঢুকে গেলে তিনি জ্ঞান হারান।

১০.৮ জেলে যতীন দাশের পাশে শ্লেট পেন্সিল রাখা হয়েছিল কেন?

উত্তর : যতীন দাশকে বলপ্রয়োগ করে খাওয়ানোর ফলে তিনি ৪৮ ঘন্টার জন্য অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফিরলে দেখা

যায় তিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন। তাই তাঁর পাশে শ্লেট রাখা হয়েছিল। যাতে তিনি বলতে না পারলেও লিখে তাঁর বক্তব্য জানাতে পারেন।

১০.৯ কিরণ দাশকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে আনা হয়েছিল কেন?

উত্তর : যতীন দাশের দেখাশোনার জন্য তাঁর ছোটো ভাই কিরণ দাশকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে আসা হয়েছিল।

১০.১০ যতীন দাশের সহযোদ্ধারা পথ অবরোধ করে শুয়েছিলেন কেন ?

উত্তর : যতীন দাশকে ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশবাহিনীর সাহায্যে জেল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা

হয়। কিন্তু তারা যাতে কোনোমতেই নিয়ে যেতে না পারে তার জন্য যতীন দাশের সহযোদ্ধারা পথ অবরোধ করে শুয়েছিলেন।

১১.১ যতীন দাশের মতো ভারতের অন্য কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবনকথা জানা থাকলে খাতায় লেখো ।

উত্তর : যতীন দাশের মতো এমনই একজন বিপ্লবী হলেন বাসুদেব বলবন্ত ফাদকে। মহারাষ্ট্রের একজন বিপ্লবী। তিনি ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে কোল, কোলি রামোসিস ও ধাঙড়দের নিয়ে একটি আদর্শ সেনাদল গঠন করেন। রোহিলা সর্দার ইসমাইল খাঁ ফাদকের বিপ্লবী প্রচেষ্টা সফল করতে এগিয়ে এসেছিলেন। ফাদকে কোষাগার লুণ্ঠন ও মাউকার মহাজনদের সম্পত্তি ও সঞ্চিত অর্থ জোর করে কেড়ে নিতে ডাকাতির আশ্রয় নেন। রেল ও ডাক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। জেল ভেঙে কয়েদিদের মুক্ত করেন। তিনি ছিলেন ‘ভারতের সংগ্রামশীল বিপ্লবীবাদের জনক’। তাঁকে বিপজ্জনক বিপ্লবীদের অন্তর্ভুক্ত করে সুদূর এডেন বন্দরে দ্বীপান্তরে পাঠানো হয়। সেখানে অত্যাচার ও চরম অযত্নে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সে মারা যান ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে।

১১.২ যতীন দাশের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলার এক বিশিষ্ট কবি তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন। সেই কবির পরিচয় লিখে তাঁর অন্য কোনো কবিতা তোমার ভালো লাগে কিনা এবং কেন ভালো লাগে সে সম্পর্কে লেখো। 

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অপর একটি গান হল ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’ আমার খুব ভালো লাগে। এই গানটিতে কবি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন যে, তাঁকে বিপদে রক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং বিপদে যেন কবি ভয় না পান। অর্থাৎ বিপদকে তিনি ভয় না পেয়ে জয় করতে চান। দুঃখ তাপ ব্যথিত চিত্ত যাই ঘটুক না কেন কবি কোনো সান্ত্বনা নয় তিনি পথ চলবার শক্তি খুঁজেছেন। তিনি যেন সহজে দুঃখকে জয় করতে পারেন। যদি কেউ তাঁর সহায় থাকুক কিংবা না থাকুক তিনি যেন শক্তিহারা না হয়ে পড়েন। তিনি নিজের মনোবল যেন না হারান –এটাই তাঁর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা। তিনি বারংবার ঈশ্বরকে বলেছেন যেন তাঁকে ঈশ্বর ত্রাণ করবেন এটা তাঁর ইচ্ছা নয়। তিনি নিজের ভার কোনোমতেই ঈশ্বরের ওপরে চাপাতে চান না। তিনি যেন নিজের ভার বইতে পারেন এটাই তিনি চান। যখন সুখ আসবে তখন তিনি ঈশ্বরকে ঠিকই চিনবেন কিন্তু দুঃখের রাত্রি পার হবার জন্য ঈশ্বরকে নিয়ে কোনো সংশয় না প্রকাশ করে ফেলেন। এটাই কবির প্রার্থনা।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال