সূচনা: ঔরঙ্গজেব রাজপুতদের বিরুদ্ধে অনুদার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি কখনােই রাজপুতদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তােলার চেষ্টা করেননি।
ঔরঙ্গজেবের রাজপুত নীতি ---
পদক্ষেপসমূহ:
1) মারওয়াড় দখলের প্রচেষ্টা: ঔরঙ্গজেব কখনােই রাজপুতদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তােলার পক্ষপাতী ছিলেন না। তাই তিনি যশবন্ত সিংহের মৃত্যুর পর মারওয়াড় দখল করার চেষ্টা করেন।
2) মেবার আক্রমণ: ঔরঙ্গজেবের রাজপুত নীতির দ্বিতীয় ভুল ছিল মেবার আক্রমণ | যদিও রাজপুতদের তীব্র বিরােধিতার জেরে শেষপর্যন্ত তিনি মেবার ও পরে মারওয়াড়ের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন। আসলে রাজপুত সর্দারদের অন্তর্দ্বন্দ্বে ঔরঙ্গজেব হস্তক্ষেপ করলে তা মুঘলরাজপুত দ্বন্দ্বে পরিণত হয়।
রাঠোর যুদ্ধ: মারওয়াড়ের রাঠোর রাজপুত রানা যশােবন্ত সিংহর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নিয়ে মারওয়াড়ের রাজধানী যােধপুরে গন্ডগােল শুরু হয়। মুঘলরা ওই রাজ্যটি পুরােপুরি হাতে নিয়ে নেয়। এরফলে শুরু হয় রাঠোর যুদ্ধ। ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে মেওয়াড় রাজ্য মারওয়াড়ের পক্ষে ছিল।
পরিণতি: ঔরঙ্গজেবের রাজপুত নীতি ছিল তার চূড়ান্ত রাজনৈতিক অজ্ঞতার পরিচয়। রাজপুতদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার ফল ছিল মুঘলদের দিক থেকে বিপর্যয়কারী। উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে পাঠান এবং দক্ষিণ ভারতে মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাজপুতদের সাহায্য যে দরকার, এই সহজ সত্যটি ঔরঙ্গজেব বুঝতে চাননি। তাই রাজপুতদের প্রতি অদূরদর্শী নীতি গ্রহণ করে তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ডেকে আনেন।
Tags
History
