সূচনা: আপাতদৃষ্টিতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্যনীতি সাফল্য লাভ করলেও মুঘল সাম্রাজ্যের পক্ষে তার নেতিবাচক ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী।
ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতির ফল ---
[1] মারাঠা শক্তির উত্থান: ঔরঙ্গজেব বিজাপুর ও গােলকোন্ডা রাজ্য দুটি অধিকার করায় মুঘল সাম্রাজ্যের আয়তন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সুদূর দিল্লি থেকে দক্ষিণে রাজ্য শাসন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে মারাঠা শক্তির উত্থান সহজ হয়।
[2] বিপুল অর্থব্যয়: সম্রাটের দক্ষিণ ভারত অভিযানে মুঘলদের বহু সৈন্য নিহত হয় এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়।
[3] প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা: ঔরঙ্গজেবের দীর্ঘদিন দিল্লিতে অনুপস্থিতি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছিল। তার ফলে মালব, রাজস্থান, মথুরা, গন্ডােয়ানা, বিহার, বাংলা প্রভৃতি স্থানে মুঘলবিরােধী শক্তিগুলি ক্ষমতা দখল করতে তৎপর হয়।
[4] সৈন্যবাহিনীর ক্ষোভ: রাজকোশে তীব্র অর্থাভাব দেখা দিলে সেনাবাহিনীকে বেতন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে তাদের মধ্যে কর্মপ্রেরণা হ্রাস পায় এবং ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। এইসব কারণে স্মিথ বলেছেন, “দাক্ষিণাত্যে ঔরঙ্গজেবের শরীর ও সাম্রাজ্য উভয়েরই কবর রচিত হয়েছিল।”
Tags
History

