সূচনা: সম্রাট আকবর উপলদ্ধি করেছিলেন যে, রাজপুতদের সহযােগিতা ছাড়া মুঘল সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে রাজপুতদের আনুগত্য লাভ করে মুঘল শাসনকে ভারতীয় চরিত্র দিতে চান।
আকবরের রাজপুত নীতি ---
[1] বৈবাহিক সম্পর্কের দ্বারা: আকবর নিজে অম্বররাজ বিহারীমল্লের কন্যা যােধাবাঈকে বিয়ে করেন ও নিজ পুত্রের সঙ্গে ভগবানদাসের কন্যার বিয়ে দেন। ধীরে ধীরে মারওয়াড়, বিকানীর, বুন্দি, রণথম্ভোর প্রভৃতি রাজ্যগুলিও আকবরের বশ্যতা মেনে নেয়।
[2] সামরিক শক্তি প্রয়ােগের দ্বারা: মেবারের শিশােদীয় বংশের রানা উদয় সিংহ এবং তার পুত্র রানা প্রতাপ আকবরের বশ্যতা স্বীকারে রাজি ছিলেন না| মেবারের রাজধানী চিতাের দখলের জন্য ১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে উদয় সিংহের সঙ্গে এবং ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রানা প্রতাপের সঙ্গে আকবরের হলদিঘাটের যুদ্ধ হয়।
[3] উচ্চপদে নিয়ােগের মাধ্যমে: মুঘল সেনাবাহিনী ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার জন্য আকবর রাজপুতদের সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদে নিয়ােগ করেন।
[4] ধর্মীয় সমন্বয় স্থাপনের মাধ্যমে: রাজপুতদের মিত্রতা লাভের উদ্দেশ্যে সম্রাট আকবর জিজিয়া ও তীর্থকর সম্পূর্ণ বাতিল করে দেন। এর পাশাপাশি রাজপুতদের নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যােগ
দিতেন।
ফলাফল: আকবরের রাজপুত নীতির ফলশ্রুতি হিসেবে রণনিপুণ রাজপুত জাতি মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়।
Tags
History
