উত্তর: বিশ্ববন্দিত মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় যুগান্তের কবিকে এই আহ্বান জানিয়েছেন। ‘মানহারা মানবী’ বলতে উপেক্ষিতা আফ্রিকাকে বোঝানো হয়েছে। আলোচ্য প্রসঙ্গে কবি যুগান্তের কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং মানহারা আফ্রিকার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। কবিতা কখনোই কবি বা পাঠকের কল্পনাবিলাসিতা নয়। তা বিভিন্ন স্তরে ফুটিয়ে তোলে সামাজিক সত্যকে, ধরতে চায় বাস্তব পৃথিবীর ত্রুটিবিচ্যুতি, ভালোমন্দ-সবকিছুকে। কবিতায় কবির ভাষা নীরব থাকলে তা কখনোই সার্থক শিল্পকর্ম হতে পারে না। আফ্রিকা ঔপনিবেশিক প্রভুদের জান্তব অত্যাচারে রক্তাক্ত, ক্ষতবিখত। এই ভূখণ্ডের মানুষ ক্রীতদাসে পরিণত। বিশ্বমানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত দেখে কবিদের নীরব থাকাটাও এক ধরনের অপরাধ বলে রবীন্দ্রনাথ মনে করেছেন। যদি মানুষ-পশুদের বিরুদ্ধে কবির প্রতিবাদী কণ্ঠ সোচ্চার না হয়, তবে তিনি কবি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেননি বলেই ধরে নেওয়া হয়। এই কারণেই অপমানিতা আফ্রিকার কাছে যুগান্তের কবিকে ক্ষমা চাইতেই হবে। আর সেই উচ্চারণ সভ্যতার ‘শেষ পুণ্যবাণী’ হয়ে বিশ্বমানবতাবাদের বার্তাকে ছড়িয়ে দেবে।