কাশীদাসী 'মহাভারত’-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তরঃ 
● কাশীদাসী মহাভারত: বাংলা রামায়ণ’-এর ক্ষেত্রে যেমন কৃত্তিবাস, বাংলা মহাভারত’-এর ক্ষেত্রে তেমনি কাশীরাম দাস সর্বাধিক জনপ্রিয় কবি। তিনি মূল মহাভারত’-এর আক্ষরিক অনুবাদ করেননি ; তাঁর অনুবাদকে ‘ বলা যেতে পারে ভাবানুবাদ। এতে বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যান যেমন স্থান পেয়েছে, তেমনি কবির নিজস্ব সংযােজনও আছে।
      কাশীরাম দাস তাঁর রচনাকে নানাদিক থেকে চিত্তাকর্ষক করে তােলার চেষ্টা করেছেন। ঘটনাবিন্যাসে এনেছেন নাটকীয়তা, চরিত্রগুলির মুখে বসিয়েছেন সরস উক্তি-প্রত্যুক্তি। হাস্যরস পরিবেশনের দিকেও তার দৃষ্টি সজাগ ছিল। কাহিনিকে সরল করে তিনি এমনভাবে লিখেছেন, যাতে বাঙালি-মন খুব সহজেই সাড়া দেয়। তার চরিত্রগুলিতেও অনেকাংশে বাঙালির জীবনস্বভাবের ছায়াপাত ঘটেছে। তা ছাড়া কাহিনি-বিন্যাসে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন সামাজিক ও পারিবারিক আদর্শকে—ধর্মনিষ্ঠা ও নৈতিকতার দিকেও তার যথেষ্ট মনােযােগ ছিল। আসলে কাশীরাম দাস বিভিন্ন দিক থেকে বাঙালি জীবনের ধ্যানধারণার সঙ্গে মহাভারতীয় ভাবাদর্শের সেতুবন্ধন করেছেন। সেজন্যই কৃত্তিবাসী রামায়ণের মতাে ধনী দরিদ্র সকলের কাছে কাশীদাসী মহাভারতেরও বিপুল সমাদর। তাঁর কাব্যের সঙ্গে তিনিও চিরকাল বাঙালি-মানসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মধুসূদনের ভাষা ব্যবহার করে আমরাও তাঁর উদ্দেশে বলতে পারি, ‘হে কাশী, কবীশদলে তুমি পুণ্যবান।

Post a Comment

0 Comments